Tuesday, 24 March 2020

ভাবুন, ভাবুন, ভাবতে থাকুন...

হ্যাঁ আপনাকে বলছি, দয়া করে মিনিট সময় দিয়ে পড়ুন

স্মৃতির পাতায় একটু খুঁজে দেখার চেষ্টা করুন তো, আপনিই কি সেই, যে ভগবানের কাছে এই অজুহাত দিত যে, “হে ভগবান! আমি তো তোমার ভক্তি করতে চাই, কিন্তু কি আর করব, তুমি তো আমার অবস্থা জানোই। তুমি তো দেখতেই পাচ্ছ যে, আমি আমার দায়িত্ব কর্তব্য নিয়ে কত ব্যস্ত। সারাদিন কত কাজ। কত দায়িত্ব। কত চাপ। কর্মক্ষেত্রে চাপ, পড়ালেখার চাপ, সন্তানের প্রতি দায়িত্ব পালনের চাপ, পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনের চাপ, আত্মীয় স্বজন-বন্ধু-বান্ধব-পাড়া প্রতিবেশীদের প্রতি দায়িত্ব পালনের চাপ, সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের চাপ। আমি এত্তো ব্যস্ত। আমার এত সময় কোথায় যে আমি তোমার ভক্তি করব ? যখন একটু ফ্রি হব, এত্তো সব দায়িত্বের চাপ থেকে হালকা হব সেদিন তোমার ভক্তি করব।
যদি আপনি এরকম চিন্তা করে থাকেন তবে আপনার জন্য ভগবান এখন অফুরন্ত সময় বের করে দিয়েছেন। ঘরে বসে ইচ্ছেমত ভগবানের নাম জপ করুন, গীতা-ভাগবত পড়ুন। সময় এখন আপনার হাতে।

কিংবা যখন কোন ভক্ত আপনার কাছে গীতা-ভাগবত নিয়ে এসেছিল, আপনি কি তাঁকে এরকম কিছু বলেছিলেন যে, “এসব শাস্ত্র-টাস্ত্র পড়ার আমার প্রয়োজন নেই।তাহলে জেনে রাখুন আজ এই সংকটময় দিনে এসব অপ্রাকৃত শাস্ত্রগ্রন্থই আপনাকে প্রকৃত দিশা দেখাবে। "কেন আমরা এই করোনা ভাইরাস রোগের দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছি? আমাদের এই সুখের পৃথিবীতে কেন এই কালবৈশাখীরূপী করোনা ভাইরাস এল? আমি তো কোন পাপ করিনি, তবে কেন আমাকে এত দুঃখ পেতে হচ্ছে? ভগবান কি আদৌ আছেন? যদি তিনি থেকেই থাকেন, তবে কেন এত দুঃখ কষ্ট?” আপনার মনে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই প্রশ্নগুলির উত্তর যা কিনা আপনাকে গুগুল বা উইকিপিডিয়াও দিতে পারবে না, সেগুলি কিন্তু আজ আপনি এই বৈদিক শাস্ত্রগুলি থেকেই পাবেন।

কিংবা যখন কেউ আপনাকে হরিনাম করতে বলেছিল তখন আপনি তাঁকে বলেছিলেনবসে বসে মালা টানার থেকে আমার আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে। আমি পরিবার-সমাজ-দেশের প্রতি দায়িত্ববান একজন মানুষ। আমি আমার কর্ম করছি। আমার কর্মই আমার ধর্ম। আলাদা করে ধর্ম-টর্ম করার প্রয়োজন আমার নেই।
যদি আপনি সত্যিই এরকম বলে থাকেন, তবে আজ আপনার সব দায়িত্বগুলিকে ছাপিয়ে গিয়ে ঘরে বসে একান্তে ভগবানের নাম করার সময় আপানার এসে গেছে। হ্যাঁ, এটা ঠিক, আপনি একজন আদর্শ দায়িত্ববান ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু আজ যদি কয়েকদিন আপনি সবার সমক্ষে হাঁচি কাশি দেন বা সামান্য জ্বরের লক্ষণ প্রকাশ করেন, তবে সেই পরিবার-সমাজ-দেশ সবাই মিলে আপনাকে গৃহ বন্দি করে রাখবে। আপনার স্ত্রী-পুত্র-পিতা-মাতা ভয়ে আপনার কাছেই আসবে না। আপনি যদি এই করোনায় মারা যান, তবে তারা কেউই আপনার মৃতদেহকেও স্পর্শ করবে না। এতদিন যে আত্মীয়, আদর্শ, আভিজাত্য অর্থরূপী অনর্থগুলির বড়াই আপনি করে এসেছিলেন, প্রকৃতির কঠোর নিয়মের একটি মৃদু হাওয়াই সবকিছু নড়বড়ে করে দিয়েছে। এখনো কি আপনার বোধদয় হয়নি? এখনো কি আপনি ভাবেন, ", আমি তো স্বাধীনচেতা মানুষ। আমি যা ইচ্ছে তাই করতে পারি। যা ইচ্ছে খেতে পারি। যেখানে ইচ্ছে সেখানে যেতে পারি। আমার তো কোন টাকা-পয়সার অভাব নেই, আর সেজন্য আমার আশেপাশে ঘুরঘুর করার লোকেরও অভাব নেই। আমি একডাক দিলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে একশত লোক এসে জড় হয়ে যাবে। পৃথিবীর যত ভাল ভাল ডাক্তার আছেন তারা আমার কাছে আছেন। আমার ভয়ে বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়।" কিন্তু ভায়া, সমস্যাটা হচ্ছে যে, করোনা ভাইরাস তো আপনাকে ভয় পাবে না। আপনি হয়ত ভাবছেন, "হ্যাঁ, তো বড় ভাবার বিষয়।" হ্যাঁ ভাবুন, ভাবুন, ভাবতে থাকুন। ভাবিয়া করিও কাজ করিয়া ভাবিও না।

Tuesday, 21 August 2018

শ্রীল প্রভুপাদের ব্যাস-পূজা ২০১৮ শ্রদ্ধাঞ্জলী

Related image
আজ অবকাশ,                    তোমার সকাশ,
প্রকাশিব সব কথা ।
শুন প্রভুপাদ,           মম অধঃপাত,
দুর্ভাগ্য-দুঃখের গাঁথা ।।১।।
অন্তরে প্রতিষ্ঠা,                   বাহিরেতে নিষ্ঠা,
কপট-লম্পট আমি ।
সদা সার্থপর,             কলির কিঙ্কর,
সকলি জানয়ে তুমি ।।২।।
মনে সদা কাম,                    বাহ্যে সাধু ভাণ,
কুটিলতায় অদ্বিতীয় ।
সাধু বলে হায়,                     ভাবে-সব আমায়,
তোমার ত সব জ্ঞেয় ।।৩।।
এমত অবস্থা,           করহ ব্যবস্থা,
প্রভুপাদ দয়াময় ।
তুমি ছাড়া আর,                  আমার উদ্ধার,
কদাপি সম্ভব নয় ।।৪।।
তব দিব্য বাণী,          যথাযথ জানি,
বিচারিতে দেহ শক্তি
প্রকৃষ্ট-আচার,            সুদৃঢ়-প্রচার,
দেহ তবানুগ ভক্তি ।।৫।।
তব মনোভাব,           আমার স্বভাব,
হয় যেন অনুক্ষণ ।
উদ্দেশ্য-তোমার,                 অভিষ্ট-আমার,
পদ্মমুখের নিবেদন ।।৬।।
শ্রীল প্রভুপাদ-পাদপদ্ম-পরাগ প্রার্থী
পদ্মমুখ নিমাই দাস ।


Friday, 17 August 2018

গৌরহরির প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং পুনঃ প্রার্থনা



ওহে গৌরহরি,           পুনঃ পদে পড়ি,
জানাই যে সাধুবাদ ।
রাখিল আমার          শ্রীগুরু, তোমার,
অজেয় আশির্বাদ ।।১।।
হেন অদভূত,             কার্য তোমার,
আবারো দেখালে তুমি ।
তব ভকতির,             শ্রেষ্ঠতা আরও,
পুনঃস্থাপিলে স্বামী ।।২।।
তব বহির্মুখ,              বিষয়ে উন্মুখ,
অবিশ্বাসী যত লোক ।
দেখি এ অদ্ভুত,          অবিশ্বাসের ভূত,
তাদের বিনাশ হোক ।।৩।।
কে জানে তোমার,              মনের বাসনা,
হয়ত আবারও হয় ।
গুরুদেব আমার,        করিবেন আবার,
পূরবের ন্যায় জয় ।।৪।।
ঝম্প হাতে,               পাগড়ি মাথে,
নৃত্য রথের আগে ।
পুনঃ সে দৃশ্য,            দেখিবে বিশ্ব,
যদিবা থাকয়ে ভাগে ।।৫।।
কৃষ্ণভাবনার,            বায়ু যে আবার,
বহিবে জগৎময় ।
সেই বায়ুতে,             জয়ের পতাকা,
ঘুষিবে তোমারি জয় ।।৬।।
গুরু-গৌরাঙ্গ-গৌড়ীয়গণ কৃপাপ্রার্থী,
পদ্মমুখ নিমাই দাস